ভারতের শিল্পজগতের দুই প্রধান ব্যক্তিত্ব মুকেশ অম্বানী এবং গৌতম আদানি পেট্রোরসায়নের দুনিয়ায় মুখোমুখি হতে চলেছেন। বহু বছর ধরে এই সেক্টরে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। কিন্তু এ বছর গৌতম আদানি তাঁর নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে রিলায়্যান্সকে প্রতিযোগিতার মুখে ফেলতে চলেছেন।
পেট্রোরসায়ন, মূলত তেল ও তার উপজাত থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক তৈরির শিল্প, ভারতের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ক্ষেত্রে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। গুজরাতের জামনগরে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনাগার এই সংস্থার মালিকানাধীন। তাদের সামগ্রিক আয়ের ২০ শতাংশ আসে পেট্রোরসায়নের ব্যবসা থেকে।
অন্যদিকে, গৌতম আদানি ইতিমধ্যেই তাঁর পেট্রোকেমিক্যাল ক্লাস্টার নির্মাণ প্রকল্প শুরু করেছেন। এ জন্য তিনি তাইল্যান্ডের ইন্ডোরামা রিসোর্সেস লিমিটেডের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে একটি নতুন সংস্থা, ভালোর পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড (ভিপিএল) গড়ে তুলেছেন। এই সংস্থায় আদানি এবং ইন্ডোরামা উভয়েরই ৫০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ইন্ডোরামা রিসোর্সেস লিমিটেড পেট্রোরসায়নের বিশ্বজুড়ে প্রসিদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠান। এর প্রতিষ্ঠাতা অলোক লোহিয়া, একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত, যিনি ১৯৯৪ সালে ব্যাংককে এই সংস্থা শুরু করেন। ইন্ডোরামা পিইটি রেজিন উৎপাদনে বিশ্বখ্যাত এবং এটি বস্ত্র শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
ভিপিএল গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে তাদের কারখানা স্থাপন করছে। প্রথম ধাপে, এই প্রকল্পে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই কারখানা বছরে ২০ লক্ষ টন পিভিসি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২৬ সালে এটি ১০ লক্ষ টন এবং ২০২৭ সালের মধ্যে ২০ লক্ষ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করবে।
মুকেশ অম্বানী এবং গৌতম আদানির এই প্রতিযোগিতা শুধুমাত্র ব্যবসায়িক লাভক্ষতি নয়, এটি শেয়ার বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিযোগিতা পেট্রোরসায়ন শিল্পে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
গত বছর আদানি গোষ্ঠী বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়েছিল, যেমন হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের রিপোর্ট এবং আর্থিক কেলেঙ্কারি। তবুও, গৌতম আদানি তাঁর ব্যবসার সম্প্রসারণ চালিয়ে গেছেন। পেট্রোরসায়নের দুনিয়ায় এই নতুন প্রবেশ তাঁর ব্যবসার প্রসারে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের পেট্রোরসায়ন শিল্পে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। মুকেশ অম্বানীর রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ বহু বছর ধরে এই ক্ষেত্রের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। গুজরাতের জামনগরে অবস্থিত তাদের তেল শোধনাগার এবং পেট্রোরসায়ন পণ্য উৎপাদন কারখানা দেশের সবচেয়ে বড়। কিন্তু এই অবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার মাঠে নামছেন গৌতম আদানি।
তাইল্যান্ডের ইন্ডোরামা রিসোর্সেস লিমিটেডের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আদানি গোষ্ঠী নতুন সংস্থা ভালোর পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড (ভিপিএল) প্রতিষ্ঠা করেছে। এই সংস্থায় উভয়েরই ৫০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এই উদ্যোগে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে এবং গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে পিভিসি কারখানা স্থাপন করা হবে।
পিভিসি, যা বস্ত্র এবং প্লাস্টিক শিল্পে ব্যবহৃত হয়, উৎপাদনে আদানি গোষ্ঠী নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে। আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে এই কারখানা বছরে ১০ লক্ষ টন পিভিসি উৎপাদন করবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এটি দ্বিগুণ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুকেশ অম্বানী এবং গৌতম আদানির এই প্রতিযোগিতা পেট্রোরসায়ন শিল্পে ভারতের প্রভাব বাড়াতে সাহায্য করবে।
আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সকল ফাইন্যান্স সংক্রান্ত তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য। এটি কোনো বিনিয়োগ বা আর্থিক পরামর্শ নয়। বিনিয়োগের আগে অবশ্যই একজন যোগ্য আর্থিক পরামর্শদাতার পরামর্শ নিন। এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট বা তথ্যের ভুল বা ত্রুটির কারণে সৃষ্ট কোনো ক্ষতির জন্য আমরা দায়ী নই। ওয়েবসাইটে থাকা লিঙ্কগুলির মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইটে প্রবেশের ফলে সৃষ্ট কোনো সমস্যা বা ক্ষতির জন্যও আমরা দায়বদ্ধ নই।
Copyright © 2024-2026 Koti Takar Kotha(কোটি টাকার কথা). All Rights Reserved.
Author: Priya Paul Roy
Priya Paul Roy, একজন Finance Educator, SEO Strategist ও Stock Market Researcher। গত কয়েক বছর ধরে তিনি Mutual Fund, SIP, IPO ও Personal Finance নিয়ে কাজ করছেন এবং সাধারণ মানুষকে সহজ বাংলায় investment শেখানোর লক্ষ্য নিয়ে “কোটি টাকার কথা” প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছেন। তিনি data-based analysis ও practical experience থেকে লেখা প্রকাশ করেন।