আজকাল সবাই UPI দিয়ে টাকা পাঠায়। গুগল পে, ফোনপে, পেটিএম – এক সেকেন্ডে টাকা চলে যায়। কিন্তু এই তাড়াতাড়ির জন্যই প্রতারকদের সুবিধা হয়ে যাচ্ছে। অনলাইন জালিয়াতি প্রতি বছর বাড়ছে। ২০২১ সালে যেখানে ৫৫১ কোটি টাকার জালিয়াতি হয়েছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২,৯৩১ কোটি টাকায়!
এই বড় ক্ষতি বন্ধ করতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) এবার বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে।
১০ হাজার টাকার বেশি কোনো ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে UPI-তে টাকা পাঠালে, সেই টাকা সঙ্গে সঙ্গে যাবে না। ব্যাঙ্ক এক ঘণ্টা আটকে রাখবে।
তোমার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে।
কিন্তু যাকে পাঠাচ্ছ, তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে ১ ঘণ্টা পর।
এই ১ ঘণ্টার মধ্যে তুমি চাইলে পুরো লেনদেন বাতিল করতে পারবে।
RBI এই ১ ঘণ্টাকে “গোল্ডেন আওয়ার” বলছে। এই সময়টুকু তোমাকে ভাবার সুযোগ দেবে। যদি মনে হয় প্রতারকের ফাঁদে পড়েছ, তাহলে তাড়াতাড়ি টাকা ফেরত আনতে পারবে।
বিশেষ কথা: এই নিয়ম শুধু ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (P2P) ট্রান্সফারের জন্য। দোকানে QR কোড স্ক্যান করে কেনাকাটা করলে এই নিয়ম লাগবে না। সেখানে আগের মতোই তাৎক্ষণিক টাকা যাবে।
বিশ্বস্ত লোকেদের হোয়াইট লিস্ট করো – তাদের টাকা তাৎক্ষণিক যাবে
তুমি চাইলে তোমার বিশ্বস্ত মানুষদের (বাবা-মা, স্ত্রী/স্বামী, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন বা খুব কাছের বন্ধু) একটা তালিকায় যোগ করতে পারবে। এটাকে বলা হচ্ছে হোয়াইট লিস্ট।
এই তালিকায় যাদের নাম থাকবে, তাদের অ্যাকাউন্টে ১০ হাজারের বেশি টাকা পাঠালেও সঙ্গে সঙ্গে চলে যাবে। কোনো অপেক্ষা করতে হবে না।
বয়স্ক মানুষদের প্রতারণার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই RBI তাদের জন্য বিশেষ নিয়ম রাখতে চাইছে:
৫০ হাজার টাকার বেশি টাকা পাঠাতে চাইলে বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তির অনুমতি লাগবে।
এক বছরে ২৫ লক্ষ টাকার বেশি লেনদেন হলে, তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত টাকা আটকে রাখা হতে পারে।
যদি কখনো মনে হয় তোমার অ্যাকাউন্টে কোনো সমস্যা হয়েছে, তাহলে একটা বোতামে ক্লিক করেই তুমি সব ডিজিটাল পেমেন্ট বন্ধ করে দিতে পারবে। UPI, কার্ড, নেট ব্যাঙ্কিং – সব বন্ধ।
এটাকে বলা হচ্ছে “কিল সুইচ”। পরে আবার চালু করতে হলে অতিরিক্ত যাচাই করতে হবে।
এখনো এটা শুধু প্রস্তাব। RBI সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মতামত চেয়েছে। তোমার যদি কোনো মতামত থাকে, তাহলে ৮ মে ২০২৬-এর মধ্যে জানাতে পারো।
ছোট টাকা (১০ হাজারের কম) পাঠালে আগের মতোই তাৎক্ষণিক যাবে।
বড় টাকা পাঠানোর সময় একটু সময় পাবে ভাবার।
প্রতারকদের তাড়াতাড়ি টাকা নিয়ে পালানো কঠিন হবে।
বয়স্ক বাবা-মায়ের টাকা আরও নিরাপদ থাকবে।
অনেকে বলছেন, এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হলে অসুবিধা হবে। আবার অনেকে বলছেন, টাকা বাঁচলে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করা কোনো ব্যাপার না।
বয়স্ক বাবা-মা বা পরিবারের সদস্যরা UPI ব্যবহার করলে এই খবরটা তাদের সাথে শেয়ার করো। ছোট একটা সতর্কতা অনেক বড় ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে।
সাবধানে থেকো। টাকা পাঠানোর আগে দু’বার ভেবে নিও।
আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সকল ফাইন্যান্স সংক্রান্ত তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য। এটি কোনো বিনিয়োগ বা আর্থিক পরামর্শ নয়। বিনিয়োগের আগে অবশ্যই একজন যোগ্য আর্থিক পরামর্শদাতার পরামর্শ নিন। এই ওয়েবসাইটের কোনো কন্টেন্ট বা তথ্যের ভুল বা ত্রুটির কারণে সৃষ্ট কোনো ক্ষতির জন্য আমরা দায়ী নই। ওয়েবসাইটে থাকা লিঙ্কগুলির মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইটে প্রবেশের ফলে সৃষ্ট কোনো সমস্যা বা ক্ষতির জন্যও আমরা দায়বদ্ধ নই।
Copyright © 2024-2026 Koti Takar Kotha(কোটি টাকার কথা). All Rights Reserved.
Author: Priya Paul Roy
Priya Paul Roy, একজন Finance Educator, SEO Strategist ও Stock Market Researcher। গত কয়েক বছর ধরে তিনি Mutual Fund, SIP, IPO ও Personal Finance নিয়ে কাজ করছেন এবং সাধারণ মানুষকে সহজ বাংলায় investment শেখানোর লক্ষ্য নিয়ে “কোটি টাকার কথা” প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছেন। তিনি data-based analysis ও practical experience থেকে লেখা প্রকাশ করেন।